শুভংকর পালের নাস্তিকবাদি প্রশ্নের জাবাব____

শুভংকর পাল লিখেছনঃ
৯০% মুসলিমের দেশে কিভাবে লিখব, গল্প, কবিতা, উপন্যাস। কিভাবে বানাব চলচ্চিত্র।
আমি তো হিন্দু।
যে পাঠ্যবইয়ের কবিতা ও গল্প গুলো পড়ে প্রথম কিছু লিখতে শিখেছিলাম।
সত্যি বলছি। নামের টাইটেল ধরে কখনই পড়ি নি কোন লেখক বা কবির লেখা।
আজ পাঠ্যবইয়ের উপর দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার যে বেড়া তুলে দেওয়া হল নিষ্পাপ শিশুদের মাঝে।
এ দাগ দিনে দিনে বাড়বে।

যে দেশের মানচিত্র নিয়ে এত গর্ব করি। যে দেশের জল হাওয়া আর মাটির জন্য এত ভালবাসা বুকে বাধি।প্রবল স্বপ্ন দেখি। সেই দেশটিতে আমার লেখার অধিকার নেই। ভাবার অধিকার নেই, বলার অধিকার নেই। কারণ আমি হিন্দু।

পাঠ্যবইয়ে হিন্দু লেখকদের লেখা উঠিয়ে দেওয়া প্রমাণ করে এদেশ শুধু মুসলিমদের।

ভাই আপনারা তো ৯০ %
এই ১০ % কেও সহ্য হয় না ?????
পাঠ্য বইয়ে হিন্দু লেখকদের লেখা থাকলে কি আপনাদের ধর্মের অবমাননা হয়ে যেত নাকি অসম্মান?

ভাই এই দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে হিন্দুদের কি ১% ভূমিকা নেই??? 
নাকি  আমাদেরকে  সংখ্যালঘু হিসাবে আপনারা পোষেন???

দয়া করে আমার এই লেখার জন্য আমাকে ভারতে পাঠাবার হুমকি দেবেন না।
কারণ ওটা আমার দেশ না।

আমার লেখার শাস্তি হিসাবে আমাকে এদেশের মাটিতেই অজ্ঞাত লাশ বানিয়ে ফেলুন এমন লাশ বানাবেন যেন আমার চেহারা চেনা না যায়। পরিচয় হিন্দু বা মুসলিম কিচ্ছু দেওয়ার দরকার নেই।

শুধু লিখে রাখবেন বাংলাদেশী।

কেন আমি এই লেখাটি লিখলাম ভিডিও টি দেখে তারপর মন্তব্য করবেন। শুধু শুধু আমার কথার উপর ভিত্তি করে তর্কে জড়াবেন না।

শুভংকর পালের পোস্টে মোঃ ওহিদুজ্জামান নাঈমের প্রথম খন্ডের জবাবঃ-
হিন্দু কবি আর সাহিত্য যদি মুছে দিতে  হলে বাংলাদেশের  নামটাও  মুছে দিতে হবে।
আমি  আপনার  কথায় একমত আছি, তবে এটা 90% মুসলিম দেশ এদেশে যদি কোন নাস্তিক কিংবা কোন হিন্দু কবি তার কবিতার মাধ্যমে  আমাদের নাস্তিকবাদি শিক্ষা দেয়। তখন  আমরা কিভাবে চুপ করে থাকবো। এই ভারতবর্ষ  স্বাধীনতার পিছনে মুসলমানদের ভুমিকায় আজ ভারত একটা স্বাধীন রাষ্টে পরিণত হয়েছে। আর যে দেশে 90 % হিন্দু 10% মুসলমান আপনি জানেন আপনার হিন্দু উগ্রবাদি সম্প্রদায়ের লোকেরা আমার নিরীহ মুসলমান মা ভাই বোনদের উপর যে নির্মম অত্যচার করছে ধর্ষিত হচ্ছে হাজার হাজার মা বোন। ধংস করেছে আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাবরি মসজিদ।  লক্ষ লক্ষ মা বোনের  বাড়ি ঘড় ধংস করেছে, এখনো করছে। আর আমাদের দেশে আমাদের সরকার আপনাদের যে ভাবে সুযোগ সুবিদা দান করছেন যা আপনার মা ভারতও দিচ্ছে না।  ইসলাম আপনাদের শএু না বন্ধু। এতটুকু বলছি আপনার পোষ্টের ব্যাখ্যা আরো আছে সময় হলে দিবো । খোদা হাফেজ।
আমাদের বাঙ্গালীদের সমস্যা হচ্ছে আমরা এ দেশের হিন্দুদের ভারতীয় ভাবি। যেটা আপনি ও ভাবলেন।

অশুভংকর পালের দ্বিতীয় খন্ডের প্রশ্নঃ-
অথচ আমি পরিস্কার আমার লেখায় বলেছি " আমার অজ্ঞাত লাশের নাম হবে হিন্দু বা মুসলিম নয় "- বাংলাদেশী।

পাঠ্য পুস্তকে বাঙ্গালী যে সব লেখকের লেখা ছিল তারা নাস্তিক???? 

ভারত অামার কোন দিক দিয়ে মা ?????????? আমি তো বার বার বলি আমি বাংলাদেশের সন্তান।

দয়া করে পৃথকি মন মানষকিতা বাদ দিয়ে আমাদের বাংলাদেশি বাঙ্গালি ভেবে যুক্তিতে আসুন।

কথায় কথায় ভারত ভারত না টেনে আমরা কি করছি সেটা দেখুন।

আর আমি ১০০% একমত এ লেখা আপনি নিজে অন্তত টাইপ করেন নি।

কারণ আপনার সম্পর্কে আমি ভাল করেই জানি।
শুভংকর দ্বিতীয় খন্ডের জবাবে ওহিদুজ্জামান নাঈমের সফল জবাবঃ

আমাদের বাঙ্গালীদের সমস্যা নয়,বরং বলো আমাদের হিন্দু বাঙ্গালীদের সমস্যা হচ্ছে আমরা বাংলাদেশে বাস করেও মনে মনে ভারতকে ভাবি। ভারতকে আমরা বঙ্গে মাতঙ্গ ভাবি। মানে ভারত মা ভাবি। জীবনে বহুত হিন্দুদের সাথে উঠাবসা করেছি,হয়তো বিশ্বাস আপনার হবে না।কিন্তু জেনে রাখুন,বাংলাদেশের ৯৯% হিন্দুদের দেহ থাকে এদেশে মানে বাংলাদেশে আর মন থাকে ভারতে। আমাদের দেশের অধিকাংশ হিন্দুরা ভারতীয় ব্যাংকে টাকা রাখছে,জায়গা জমি ক্রয় করছে,কেউ দালান ঘর তৈরি করছে। সোজা কথা বাংলাদেশি অর্থ ভারতে পাচার হচ্ছে।
#ধর্ম প্রত্যেকটি মানুষের পরিচয় বহন করে যে, সে কোন ধর্মের লোক ছিল।তারপর আসতে পারে সে কোন দেশের,কোন ধর্মের বাঙ্গালি না হিন্দু না খ্রিষ্টান না বোদ্ধ না ইহুদী না নাস্তিকবাদি ।কিন্তু আপনি কি বললেন, "আমার অজ্ঞাত লাশের নাম হবে হিন্দু বা মুসলিম নয়" হবে বাংলাদেশ। আচ্ছা যদি তাই হয়, তবে আপনি মন্দিরে যেয়ে পূজা করেন কেন? আপনার পিতৃ পরিচয় কেন হিন্দু শুভংকর পাল। নাস্তিকেরও একটা পরিচয় আছে,সে নাস্তিক কিন্তু আমি দেখলাম যে,আপনি কোন পরিচয় দিতে চান না কারণ কি ভাই? আপনি বলেছেন,আপনার মৃত্যুর পরে আপনার লাশ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে পরিচয় পাক যদি আপনি এই পরিচয় পেতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে আপনার পিতৃমাতৃ পরিচয় আজ হতে মুছে ফেলতে হবে। যেখানে যাবেন সেখানে শুধু বাংলাদেশের বাঙ্গালি সন্তান বলে পরিচয় দিতে হবে।অন্য পরিচয় দিতে পারবেন না।ঠিক আছে।
#যদি তাদের লেখায় নাস্তিকতা থেকে থাকে অবশ্যই তারা (লেখকরা) নাস্তিক  হবে।সে যে লেখকই হোক না কেন? সে নাস্তিক বলেই গণ্য হবে।
#আপনি বাংলাদেশের সন্তান কিন্তু কার সন্তান? হিন্দুর সন্তান।এখানে আমি আপনাকে হিন্দু বলে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করছি না। দেশ কারও বাপের না বরং জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেরই। আপনি কি জানে বাংলাদেশের অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রায় 70% হিন্দু এমনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সে একজন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।তাদের সকলেও একটা ধর্মের পরিচয় আছে কিন্তু আপনি শুভংকর পাল হয়েও আপনার ধর্মের পরিচয় দিচ্ছেন।আপনা কিসের এত অহংকার?

#আপনি বলেছেন, পাঠ্য পুস্তকে হিন্দু লেখকের অনেক লেখা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল তো করাই উচিত যে, লেখার দ্বারা মানুষ কিংবা কোন জাতি বিপদগামী হবে, মানুষকে নাস্তিকতার দিকে ঠেলে দিবে। সে লেখা পড়ে মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণই হবে এমন লেখাতো বাদ হবারই কথা ছিল। রবীদ্রনাথের সব লেখাই কি সরকার বাতিল করেছে ,করেন নাই। উনার সে সব লেখা মানুষের জন্য কল্যাণর সেসব লেখাতো পাঠ্য পুস্তকে আছে।তাহলে আপনি কেন অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ি করেন? খেয়ে দেয়ে কাম পায় না।
#মনে রাখবেন আমরা আপনাকে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করছি না কিন্তু আপনার লেখায় আপনি পরিচয় করিয়ে দিলেন যে আপনি বাংলাদেশের কেউ না।আপনি কোন ধর্মের অনুসারীও না।তাহলে আপনি কি? যার ধর্মের পরিচয় থাকে না, সে জাতীয় পরিচয় হতে বঞ্জিত হয়।আপনার ধর্মের পরিচয় না থাকলে আপনি বাঙ্গালি বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন না।

Post a Comment

0 Comments